Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া অটিজম চিহ্নিতকরণে ভূমিকা রাখছে: পুতুল

নিউইয়র্ক, ২৬ এপ্রিল: অটিজম বিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেইন পুতুল বলেছেন, “বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় জন্মলগ্ন থেকে অটিজমের শিকার শিশুদের সংখ্যা জানা যাচ্ছে। অটিজম প্রতিরোধে বাংলাদেশের অগ্রগতি দৃষ্টান্তমূলক।”

 

২৪ মে মঙ্গলবার নিউইয়র্কের এক হোটেলে মধ্যাহ্নভোজপূর্ব এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সায়মা ওয়াজেদ শিশু অধিকার বিষয়ক ইউনিসেফের অপর এক আলোচনায়ও অংশ নেন।

 

বৈঠকে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সৌদি আরবের প্রিন্সেস সামিরা, সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ ইয়াহ এ এল মৌলিম, অটিজম বিশেষজ্ঞ মার্ক রথমেয়ার, ড. এন্ডি শীষ, জন কার্লোস ব্রান্ড, ড. এ রশিদ, সেলিনা মোমেন অংশগ্রহণ করেন।

 

অটিজম নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরে জাতীয় অটিজম কমিটির চেয়ারম্যান সায়মা ওয়াজেদ হোসেইন বলেন, “আপনারা জানেন অটিজম হল একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা। সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল (সি ডি সি) এর তথ্য অনুসারে আমেরিকাতে প্রতি ৮৮ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিজমে আক্রান্ত। তবে এর মধ্যে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের আক্রান্তের হার অনেক বেশি। যেমন প্রতি ৫৪ জন ছেলের মধ্যে একজন এবং ২৫২ জন মেয়ের মধ্যে একজন অটিজমে আক্রান্ত যা সম্মিলিতভাবে ডায়াবেটিস, এইডস, ক্যান্সার, সেরিব্রাল পলসি, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, ডাউন সিনড্রোম এ আক্রান্ত শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি। গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ বাংলাদেশে যা গ্যাপ হিসেবে পরিচিত তা স্বউদ্যোগে পুরানো বাধাগুলো অতিক্রম করে নতুনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।” সকলের অকুন্ঠ সমর্থনের জন্য তিনি গ্যাপ বাংলাদেশের ন্যাশনাল এ্যাডভাইজারি কমিটির চেয়ার হিসেবে সকলকে ধন্যবাদ জানান।

 

সায়মা ওয়াজেদ জানান যে বর্তমানে গ্যাপ বাংলাদেশ প্যারেন্টস এবং প্রফেশনালদের সমন্বয়ে অ্যাওয়ারনেস এন্ড অ্যাডভোকেসি, এডুকেশন, সারভিস এবং রিসার্চ এই চারটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, “গ্যাপ বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সদস্যগণের স্বতঃপ্রনোদিত সহায়তা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের সিচ্যুয়েশন এনালাইসিস ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এই ডকুমেন্টে অটিজম এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজ বিষয়ে বর্তমানে সম্পদ কী আছে এবং কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি এর সম্ভাব্য সমাধানের সুপারিশ করা হয়েছে। গ্যাপ শিশুদের জন্য অটিজম স্পিকস থেকে প্রণীত কমিউনিটি টুলকিটের বাংলা অনুবাদ করেছে। এটি প্যারেন্টস, টিচার এবং সার্ভিস প্রোভাইডার অর্থাৎ যারা এই জনগোষ্ঠীকে সেবা দিয়ে থাকেন তাদের জন্য একটি সহায়ক টুলস্ হিসেবে কাজ করবে।”

 

সায়মা ওয়াজেদ বলেন, “গত ২৫ জুলাই, ২০১১ অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১১টি দেশের অংশগ্রহণে সর্বসম্মতভাবে ঢাকা ঘোষণা করা হয় যা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য একটি মাইলফলক। এ সম্মেলনে শিশুদের মনঃস্বাস্থ্য সেবায় শুধু আঞ্চলিকভাবেই নয় বিশ্বজুড়ে পারস্পারিক সহযোগিতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়।” তিনি বলেন, “এসকল শিশু ও তাদের পরিবারের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে তাদের সক্ষমতাকে আরো বৃদ্ধি করতে হবে। মনে রাখতে হবে নাগরিক হিসেবে তাদেরও রয়েছে সমঅধিকার। এ বিষয়ে সকলের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিশেষত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেক বেশি সচেতনতা তৈরি করতে হবে যাতে প্রাইমারি থেকে টারসিয়ারি লেভেল পর্যন্ত সকলকে সমন্বিতভাবে সেবা প্রদান করা যায়। এ উদ্দেশ্যে মানব সম্পদ ও অর্থ সম্পদের সুষম বন্টন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্য সম্পাদন করতে হবে।”

 

সায়মা ওয়াজেদ এই শিশুদের পারিবারিক এবং সমাজ জীবনে সমভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এজন্য পরিবার, বাড়ি এবং স্কুলে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। উন্নত সেবার মানদণ্ড নির্ণয় এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।” তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সমাজসেবা সেক্টরসমূহের সঙ্গে পেশাজীবী, অ্যাডভোকেট এবং পরিবারের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ বিষয়ে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট