Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জব্বারের বলীখেলা বলী চ্যাম্পিয়ন অলি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
বাবা হারিস মেম্বার ছিলেন নামকরা বলী। তাই ছোটবেলা থেকেই দেশসেরা বলী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরিদ্র পরিবারের সন্তান অলি হোসেন। কিন্তু পরিবারের দায়িত্বভার কাঁধে নিয়ে নিষ্ঠুর বাস্তবতা মেনে নিয়ে বলী হওয়ার পরিবর্তে মুদি দোকানদার হতে হয় তাকে। তার পরও দেশসেরা বলী হওয়ার সেই স্বপ্ন লালন করতে থাকেন তিনি। আট বছর আগে পণ করেন দেশসেরা বলী হবেনই তিনি। সেই থেকে কঠোর পরিশ্রম ও সেরা বলী হওয়ার কৌশল রপ্ত করতে থাকেন। নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেই গতকাল বুধবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামের শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন অলি। তিনি জানতেন, দেশসেরা বলী হওয়ার খেতাব পেতে হলে এই ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলায় চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে তাকে। শেষ পর্যন্ত নতুনের কেতন উড়িয়ে জব্বারের বলী খেলার ১০৩তম আসরের চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় পরে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন অলি হোসেন। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই তার এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই প্রতিযোগিতার বিগত এক দশকের সেরা বলীদের অনুপস্থিতি বুঝতেই দেয়নি দর্শকদের। বরং জব্বারের ঐতিহ্যবাহী এই বলী খেলা দেখতে আসা হাজারো দর্শক চ্যাম্পিয়ন অলি ও রানারআপ ইকবাল বলীর লড়াই দেখে মুগ্ধ। ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে লড়তে দেশের তরুণ যুবকদের শারীরিকভাবে তৈরি
করতে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার বাসিন্দা আবদুল জব্বার এই বলী খেলার প্রচলন করেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে শত বছর পেরিয়ে বর্তমানে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী লোকজ উৎসবেই শুধু পরিণত হয়নি জব্বারের এই বলী খেলা, ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসেও। এরই ধারাবাহিকতায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার এই ১০৩তম আসরের আয়োজন করা হয়। বাংলালিংকের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই বলী খেলায় (কুস্তি প্রতিযোগিতা) এবারও চার ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে বালি দিয়ে তৈরি করা হয় বলী খেলার গ্রাউন্ড (টার্ফ)। সকাল থেকেই লালদীঘির ময়দানে বলী খেলা দেখার জন্য মানুষের ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো লালদীঘি ময়দান। ছাদের উপর দাঁড়িয়েও খেলা উপভোগ করেন অনেকে। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জব্বারের বলী খেলার ১০৩তম আসরের উদ্বোধন করেন চ্যানেল আইর বার্তাপ্রধান ও পরিচালক শাইখ সিরাজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম মনজুর আলম। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কাশেম, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বাংলালিংকের রিজিওনাল কমার্শিয়াল হেড মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। বলী খেলা ও মেলা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহুর লাল হাজারীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র হাসান মাহমুদ চৌধুরী হাসনী, কাউন্সিলর আবদুুল মালেক, আবদুুল জব্বারের নাতি শওকতুল আনোয়ার প্রমুখ। চ্যানেল আই সরাসরি সম্প্র্রচার করে চট্টগ্রামবাসীর জনপ্রিয় এই জব্বারের বলী খেলা প্রতিযোগিতাটি।
এবারের বলী খেলা প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৬ জন বলী অংশ নেন। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ১২ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭০ বছর বয়সী বলীও ছিলেন। সাধারণ, চ্যালেঞ্জিং ও চ্যাম্পিয়ন_ এই তিনটি বাউটে অংশ নেন বলীরা। সাধারণ বাউটে বিজয়ী হন ৩৭ জন বলী। এর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ বলী কুমিল্লার ইমরানও রয়েছে। এ ছাড়াও সর্বোচ্চ ৭০ বছর বয়সী হাটহাজারীর বলী মফিজ সাধারণ বাউটে বিজয় লাভ করেন। সাধারণ বাউটের পর চ্যালেঞ্জিং বাউটে অংশ নেন কুমিল্লার জসিম বলী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অলি হোসেন বলী এবং রাউজানের ইকবাল বলী ও মিরসরাইয়ের লিয়াকত বলী। চ্যালেঞ্জিং বাউটের প্রথম ম্যাচে গতবারের রানারআপ লিয়াকত বলীকে হারিয়ে এবার নতুন আসা ইকবাল বলী জয়ী হন এবং দ্বিতীয় ম্যাচে জসিম বলীকে হারিয়ে অলি বলী জয়ী হন।
এর পর চ্যাম্পিয়ন বাউট অর্থাৎ ফাইনালে মুখোমুখি হন ইকবাল ও অলি হোসেন বলী। কিন্তু অলি বলীর সঙ্গে পেরে ওঠেননি ইকবাল বলী। প্রায় চার মিনিট স্থায়ী তাদের জমজমাট লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হেরে ইকবালকে রানারআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। আর বিজয়ের হাসি হেসে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেন অলি হোসেন বলী। সেই সঙ্গে দেশ সেরা বলীর খেতাবও পান তিনি।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে অলি হোসেন বলী বলেন, ‘ভীষণ ভালো লাগছে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে। আমি আগামীতেও সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’ জব্বারের বলী খেলা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে তিনি নগদ ১৫ হাজার টাকা ও চ্যাম্পিয়ন ট্রফি পান। রানারআপ ইকবাল বলী পান ১০ হাজার টাকা ও রানারআপ ট্রফি। এবার জব্বারের বলী খেলায় বিগত এক দশকের সেরা তিন পারফরমার খাগড়াছড়ির মর্ম সিং ত্রিপুরা বলী এবং রামুর দিদার বলী ও টেকনাফের আলম বলী অংশ নেননি। তারা অংশ নিলে আরও উপভোগ্য হতো জব্বারের বলী খেলার এই ১০৩তম আসর।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট