Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

টেকনাফে উজাড় হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বন

কক্সবাজার, ২২ এপ্রিল: টেকনাফের উপকূলীয় এলাকার প্যারাবন নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে। ভূমিদুস্যরা ম্যানগ্রোভ বনের কেওড়া গাছ কেটে ঘের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। পৃথক বাহিনী সরকারি বনের গাছ সাবাড় করে বিশাল বনভূমি জবর দখলে নিয়ে মাটির বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করছে চিংড়ি ঘের।

বন নিধনের খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফের হোয়াইক্যংস্থ নাফ নদীর তীরে সৃজিত ম্যানগ্রোভ বনে নিধনযজ্ঞ চলছে। সমানতালে নিধন হচ্ছে বিশাল উপকূলীয় এলাকার অপরাপর কেওড়া বন। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ভূমিদস্যু বাহিনী বনের শত শত কেওড়া গাছ সাবাড় করছে। সাবাড় করা অংশে বিপুল শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে চিংড়ি ঘের।

এ এলাকায় অবৈধ দখলদাররা রাজস্ব গড়ে তুলে ম্যানগ্রোভ বনের প্রায় ৫০ হাজার কেওড়া গাছ নিধন কাজ শুরু করেছে। এ খবর গত ১৯ এপ্রিল উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিজিবি সৈনিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বনে কর্তন করে ফেলে রাখা প্রায় ৪০০ ঘন ফুট কেওড়া গাছ উদ্ধার করে ও মাটির বাঁধ নির্মাণ করে ভূমিদস্যু বাহিনীর জবর দখলে নেয়া বনভূমি পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নাফ নদীর চরে সৃজিত বন সংলগ্ন বিভিন্ন ঘের মালিক, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীন দলের পাতি নেতারা বাহিনী গড়ে তোলে বন নিধন ও জবর দখলে নামে। ম্যানগ্রোভ বনের উত্তর পাশে ঝিমংখালী এলাকার জাফর আলম, মোস্তাক আহমদ, ফরিদ আলম, আব্দুস শুক্কুর ও আব্দুর রশিদসহ ১৬ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করে চিংড়ি ঘের।

৬নং স্লুইচ গেইট এলাকায় খাল সংলগ্ন মিনাবাজার এলাকার মোহাম্মদ ওসমান তার ঘেরের পূর্ব পার্শ্বের বিশাল কওড়া বনের বিপুল গাছ কেটে বিলীন করেছে। দক্ষিণ পার্শ্বে কানজর পাড়া সমিতির প্যারাবন নামক চিংড়ি ঘেরে পার্শ্ববর্তী বনের বিপুল গাছ কেটে জমি জবর দখল করে নিজেদের ঘেরের সঙ্গে সংযুক্ত করার দৃশ্য দেখা যায়।

এছাড়া খারাংখালী, নয়াবাজার, কানজরপাড়া মৌলভী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর চরে লাগানো সরকারি বনের কেওড়া গাছ উজার করার দৃশ্য দেখা যায়।

সূত্রে প্রকাশ, টেকনাফে সবুজে সমারোহ একমাত্র ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে হোয়াইক্যংয়ের ঝিমংখালী উপকূলীয় এলাকায়। এ বনে কেওড়া নিধন করে ভূমি জবর দখলে নেয়ার ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বনে গিয়ে দেখা যায়, বনের সুউচ্চ বিশালাকারের কয়েক শতাধিক কেওড়া গাছ উজাড় করে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। যেসব অংশে গাছ সাবাড় করা হয়েছে, সেসব অংশ বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন ঘেরার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। ক্রমে এভাবে বিপুল জমি জবর দখলে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে চিংড়ি ঘের। উজাড় করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক কেওড়া গাছ। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে অসাধু সিন্ডিকেট বাহিনী পুরোদমে এ নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশ ধ্বংসাত্মক এ কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হাসান জানান, বন নিধনের খবর পেয়ে সীমান্ত এলাকা হিসেবে বিজিবির একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে বেশ কিছু কেওড়া গাছ জব্দ করা হয় এবং সীমান্ত এলাকায় এ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে টেকনাফ উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ জমি লিজ ও প্রস্তাবনার অজুহাতে জবর দখল করে ভূমিগ্রাসীরা। উজাড় করেছে শত শত কেওড়া গাছ। এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে বিভিন্ন ভূমিগ্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু লিজ ও প্রস্তাবনার বিভিন্ন অজুহাত কাড়া করে আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি ম্যানগ্রোভ এলাকার কেওড়া গাছ নিধনকারী ও ভূমিগ্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট