Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

খালেদার নেতৃত্বে গণমিছিল আজ

দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপির গণমিছিলে পুলিশের বাধা ও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় সরাসরি সরকারকে দায়ী করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। গণতন্ত্র হত্যার জন্য সরকার সুপরিকল্পিতভাবে গতকাল রোববার হত্যাকা- চালিয়েছে দাবি করে এ ব্যাপারে জোর লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এদিকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজধানীতে আজ গণমিছিল করবে বিএনপি। গতকাল রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম

আলমগীর বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রোববার বিভিন্ন জেলায় গণমিছিলে পুলিশ, র‌্যাব ও ক্ষমতাসীন সন্ত্রাসীরা নির্মম পৈশাচিক হত্যাকা- চালিয়েছে। লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুরে আমাদের দলের মোট তিনজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অসংখ্য নেতাকর্মী। তিনি বলেন, জালেম সরকারের হাত থেকে বাঁচতে দেশবাসী চুপ করে থাকবে না। ঐতিহাসিকভাবেই সংগ্রামী জনগণ অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত আছে। বিএনপি আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত শার্টেই মানুষের হারানো স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জোর লড়াই অব্যাহত রাখবে। হত্যা, গুম, ছুড়ে দেওয়া টিয়ার শেলের মধ্যেও শত নির্যাতন আলিঙ্গন করে এই স্বৈরাচারীতার শৃঙ্খল ভাঙবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে প্রায় এক মাস আগে ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া। এরমধ্যে কর্মসূচি পালনের সব প্রস্তুতি নেয় প্রধান বিরোধী দল। গতকাল রোববার বেলা আড়াইটায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন, শরিকসহ সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা এ মিছিলে অংশ নেওয়ার ঘোষণা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বর্ধিত সভা থেকে একই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করার ঘোষণা দেয় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের এ পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণার পর রাজধানীতে রোববার সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে পুলিশ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর পুলিশ সেদিন ঢাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করলে দুই দলই তাদের কর্মসূচি একদিন করে পিছিয়ে দেয়। তবে বিএনপির জেলায় জেলায় কর্মসূচি বহাল রাখা হয়। গতকাল সকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বান্দরবান, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও পটুয়াখালীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিতে চাঁদপুরে বিএনপির দুইজন এবং লক্ষ্মীপুরে একজন কর্মী নিহত ও বহু আহত হয়।
পুলিশি নির্যাতন, হামলা, মামলা ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রবল বাধার মুখেও সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এই গণমিছিলে অংশ নিয়ে জনগণ বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে। গণমিছিল করতে গিয়ে রোববার লক্ষ্মীপুরে যুবদল নেতা ও রনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ছাত্রদল নেতা লিমন সোহেল ও যুবদল নেতা আবুল প্রধান। এছাড়া সারাদেশে ১১৭৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৭০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সারাদেশে গ্রেফতার হয়েছে ১২৩৪ নেতাকর্মী। তিনি গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের ঘটনায় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী কর্তৃক দেশজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির এক নতুন ও ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন হল। বিএনপি ও চারদলীয় জোট তাদের পূর্বঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের প্রস্তুতি যখন সম্পন্ন করেছে ঠিক সেই সময় গত ২৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ২৯ জানুয়ারি গণমিছিলের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা ও পালনের ক্ষেত্রে রীতি-রেওয়াজ রয়েছে। যেহেতু বিএনপি ও চারদলীয় জোট আগে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে, সেহেতু একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ একই দিনে একই সময় কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে না। আজ সোমবারও ঢাকায় আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের রীতিনীতি উপেক্ষা করে আবারো এ দলটি ঢাকায় সোমবার জনসভা আহ্বান করেছে। আমরা তাদের প্রতি অনুরোধ রাখব, গণতন্ত্রের স্বার্থে এ জনসভা প্রত্যাহার করে নিন।
সোমবার বিএনপির একটি বড় কর্মসূচি আছে। আশা করি, ক্ষমতাসীন দলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। ঢাকায় সোমবার গণমিছিল সফল করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে আশা করছি। অন্যথায় (রোববার) যা ঘটেছে তার দায়-দায়িত্বসহ আজ কিছু ঘটলে তার দায়দায়িত্বও সরকারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, সোমবার দুপুর ২টায় নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলের নেতৃত্ব দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। মিছিল শুরুর আগে তিনি বক্তব্যও দেবেন। এরপর শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে বাংলামোটরে গিয়ে শেষ হবে এ কর্মসূচি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, পরিকল্পিতভাবে পুলিশের উন্মত্ত লাঠিচার্জ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আক্রমণে শুধু রক্তই ঝরেনি, তারা গুলি চালিয়ে নিষ্ঠুরভাবে দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম নির্মমতা চালিয়ে হত্যা, গুম ও অসংখ্য নেতাকর্মীকে মারাত্মক আহত ও গ্রেফতার করেছে। আমরা পুলিশের নিষ্ঠুরতম নৃশংস হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হাতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।
ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন আলম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, স্বেচ্ছাবিষয়ক সম্পাদক হাবীব উন নবী খান, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ সোর্স সটিনি রিপোর্ট

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


3 Responses to খালেদার নেতৃত্বে গণমিছিল আজ

  1. Amal Biswas

    January 30, 2012 at 11:21 am

    i like bd news

  2. sikiş izle

    March 13, 2012 at 8:54 am

    Wonderful publish admin! i bookmarked your internet web site. i will appear forward in the event you can have an e-mail list including.

  3. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 3:09 pm

    Greetings thanks for good submit i used to be searching for this issue previous 2 days. I’ll search for upcoming valuable posts. Have pleasurable admin.