Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অন্তহীন গুজব

স্টাফ রিপোর্টার: অন্তহীন গুজব চারদিকে। মঙ্গলবার বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকেই একের পর এক গুজব ডালপালা ছড়াচ্ছে। সর্বশেষ গত সন্ধ্যায় গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় অভিযান চালানোর সময় গুজব রটে ইলিয়াস আলীকে পাওয়া গেছে। কিন্তু না র‌্যাবের অভিযান ব্যর্থ হয়। বুধবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার পর গুজব রটে ইলিয়াসকে ছেড়ে দিতেই এ মামলা করা হয়েছে। কখনও গুজব ছড়ায় তিনি স্ত্রী’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। আবার কখনও খবর রটে ইলিয়াসকে কোন গোয়েন্দা সংস্থা আটকে রেখেছে। বিশেষ করে গতকাল পূবাইলে র‌্যাবের অভিযানের পর গুজবে ভাসছে দেশ।

বিকালে খবর রটে ইলিয়াসের স্ত্রীকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয়েছে। সন্ধ্যায় তাকে নিয়ে অভিযানের সময়ও নানা গুজব। কেউ বলছেন, এ অভিযানও একটা নাটক। রাতে বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর খবর মিলেছে ইলিয়াসের স্ত্রী অভিযানে যান নি। মোবাইল ফোন আর ফেসবুকে আদানপ্রদান হচ্ছে নানা তথ্য। কেউ কেউ বলছেন, ইলিয়াস আর নেই। কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা সবই অজানা। মুখে মুখে জিজ্ঞাসা ইলিয়াস আলী ফিরবেতো? সরকার কি তাকে আটকে রেখেছে? এর পেছনে অন্য কোন ষড়যন্ত্র নেইতো? ১৭ই এপ্রিল মধ্যরাতে দাপুটে এ বিএনপি নেতা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই চলছে এ পরিস্থিতি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্কখাতের পর আরেকদফা গুজব ছড়ায়। সর্বশেষ গুজবের বিষয়বস্তু ছিল দেনদরবার। খালেদা জিয়ার কাছে কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে। এসব শর্ত মেনে নিলে রাতের কোন এক সময় তাকে উদ্ধার দেখানো হবে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হতাশ হয় দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। গত ক’দিনে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেছে সরকার ইলিযাস আলীকে গুম করেছে। অন্যদিকে সরকার দলীয় শীর্ষ নেতাদের দাবি- ইলিয়াসকে লুকিয়ে নাটক করছে বিএনপি। এসব বক্তব্যও জন্ম দিয়েছে নানা গুজবের। তদন্ত সংশিøষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি- তারা খুঁজে পাচ্ছে না নিখোঁজ রহস্যের কুল কিনারা। যতই গুজব রটুক না কেন সত্য হলো ১০০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ইলিয়াস আলীর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ব্যর্থ অভিযান: নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সন্ধানে নিষ্ফল অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর পাশে টঙ্গীর কয়ার নামক এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশের ৭টি টিম একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করেছে। র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব  ও পুলিশ সদস্যরা টঙ্গীর পুবাইলের কয়ার এলাকার জনৈক এজাজুল হকের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু ওই বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি। সোহায়েল আরও বলেন, বিকালের দিকে তাহসিনা নিজেই র‌্যাব-১ এর কয়েকজন কর্মকর্তা ও গুলশান জোনের ডিসিকে ডেকে নিয়েছিলেন তার বাসায়। বলেছিলেন, আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। ইলিয়াস আলীর খোঁজ পাওয়া গেছে। আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না। আপনারা দ্রæত অভিযান চালান। সোহায়েল বলেন, আমরা তার কথার গুরুত্ব দিয়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামি। পুলিশের গুলশান জোনের ডিসির নেতৃত্বে একটি, র‌্যাবের নেতৃত্বে ৩টি ও গাজীপুর জেলা পুলিশের এসপির নেতৃত্বে আরও একটি টিম নিয়ে একযোগে ওই বাসায় অভিযান চালাই। বাড়ির চারপাশ ঘিরে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কাউকে পাওয়া যায়নি। সোহায়েল বলেন, বাড়ির মালিক এজাজুল একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। ইলেক্ট্রিক পণ্যের ব্যবসায়ী। তার বাড়িতে না পেয়ে পরে ওই এলাকার আরও কয়েকটি সন্দেহজনক বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ ইলিয়াসের স্ত্রীর বাসায় গিয়ে কেউ একজন সরাসরি দেখা করেছেন। অতি গোপনীয় কথা বলে এই তথ্য দিয়ে সটকে পড়েছেন।
শত্রæ খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী: বিএনপি নেতা ইলিয়াস ও তার গাড়িচালক কোথায়? কারা ও কেন তুলে নিয়ে গেল তাদের?  কোন পথেই বা হারিয়ে গেলেন তারা? নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পরও এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাননি তদন্ত সংশিøষ্ট র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দারা। তারা খুঁজে বেড়াচ্ছেন ইলিয়াসের শত্রæ কারা। সংগ্রহ করছেন তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রতিদ্ব›দ্বীদের নাম-ঠিকানা। তদন্ত সংশিøষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইলিয়াসের বাড়ি, গাড়ি উদ্ধারস্থল ও হোটেল রূপসী বাংলার আড্ডাস্থলে উপস্থিত লোকজনের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু কোন ক্ল্যু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গতকালও র‌্যাব ও বনানী থানা পুলিশের দু’টি টিম বনানীর ২/১ নম্বর সড়কের সিলেট হাউজে গিয়েছিলেন। সকাল ১১টায় র‌্যাবের দু’কর্মকর্তা নিখোঁজ ইলিয়াসের স্ত্রী তাহমিনা রুশদী লুবনার কাছে জানতে চেয়েছেন, ইলিয়াসের শত্রæ কারা? সন্দেহভাজন হিসেবে কারও নাম বলা যায় কিনা। তাদের কেউ কখনও  হুমকি দিয়েছিলেন কিনা? জবাবে তাহমিনা বলেছেন, কারা কেন এ কাজ করেছে, কিভাবে তুলে নিয়ে গেছে আমি তা বলতে পারবো না। আমি জানতে চাই কবে ফিরে পাবো আমার স্বামীকে। জানতে চাই  নিরপরাধ চালকের কি ছিল অপরাধ? লুনা বলেন, র‌্যাব কর্মকর্তারা ১০-১৫ মিনিট  অবস্থান করে চলে যান। ইলিয়াস কিংবা তার চালকের কোন খবর দিতে পারেননি। অন্যদিকে বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তা  কাজী মাইনুল ইসলাম বলেছেন, নিখোঁজ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী কিংবা তাদের মোটিভÑ কোনটিই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের এ পর্যায়ে ইলিয়াস ও তার চালকের শত্রæ খোঁজা হচ্ছে। কি কারণে অপহরণের ঘটনা ঘটতে পারে তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (উত্তর) মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন ক‚ল-কিনারা করতে পারছি না। কারা ও কেন তুলে নিয়ে গেছে বুঝতে পারছি না।
ওই রাতে কারা ছিল রূপসী বাংলায়: গোয়েন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাতে হোটেল রূপসী বাংলায় ইলিয়াসের সঙ্গে ৫ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে যুবদলের তিন নেতা ছিলেন। এরা হলেনÑ মীর নেওয়াজ, আমজাদ হোসেন ও মোনায়েম মুন্না। এর বাইরে একজন আইনজীবীও ছিলেন। তার নাম এডভোকেট এহসান আলী। গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন, রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে ইলিয়াস আলী হোটেল রূপসী বাংলায় প্রবেশ করেছিলেন। এ সময় তার প্রাইভেটকারে মীর নেওয়াজ, আমজাদ ও মোনায়েম মুন্না ছিলেন। তার গাড়ি অনুসরণ করছিল দু’টি মোটর সাইকেল। মোটর সাইকেলের আরোহী ছিলেন জাহাঙ্গীর ও শরীফ নামে দু’জন। সূত্র জানায়, মূলত  ইলিয়াস আলী এডভোকেট এহসান আলীর সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি সঙ্গী হিসাবে যুবদলের ওই তিন নেতাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। সূত্র আরও জানিয়েছে, ডিবি পুলিশের তদন্ত টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে আরও দু’টি তদন্ত সংস্থা তাদের ডেকে নিয়ে যায়। তবে কোন সংস্থাই নিখোঁজ  ইলিয়াস  ও তার চালকের সন্ধান দিতে পারেনি। গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (উত্তর) মাহবুবুর রহমান বলেন, ওই রাতে ইলিয়াসের সঙ্গে রূপসী বাংলায় যারা অবস্থান করেছিলেন তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু নিখোঁজ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
রূপসী বাংলার সিসিটিভিতে কিছুই ধরা পড়েনি: তদন্ত সংশিøষ্ট পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই হোটেল রূপসী বাংলার ৭টি সিসিটিভি ক্যামেরা জব্দ করা হয়। তবে ওই সব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্রে কিছুই পাওয়া যায়নি। লোকজনের আসা যাওয়া বোঝা গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, হোটেল রূপসী বাংলার বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো একেবারেই নিম্নমানের। লোকজনের মুভমেন্ট ধরা পড়লেও ওই ক্যামেরার ভিডিও চিত্র দেখে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
অর্থ কেলেঙ্কারি আড়াল করতে গুম করা হয়েছে- বিএনপি: রেলমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা আড়াল করতেই সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা আড়াল করার জন্য সরকার ইলিয়াস আলীর মতো নেতাকে গুম করে আরেকটি ঘটনা তৈরি করেছে। বিরোধী মতকে স্তব্ধ করতে দেশে প্রতিনিয়ত গুম-হত্যার  ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তিন বছরে ৯৭ জন রাজনৈতিক কর্মীকে গুম করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন কোন শক্তি এই কাজগুলো করছে। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের প্রতিবাদ এবং কারাবন্দি সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। পুরান ঢাকার হাজারীবাগ-লালবাগ-বংশাল-চকবাজার-কোতোয়ালি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনার পর দেশের মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি নেই। আওয়ামী লীগ আগের মতো একই কায়দায় একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে। এজন্য বিরোধীদলের নেতাদের হত্যা-গুম করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যারা সরকারের সমালোচনা করছে তাদেরকে গুম, হত্যা ও নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এমন দেশে আমরা বাস করছি, যেখানে মানুষের নিরাপত্তা নেই। মিছিল-মিটিং আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। গত পরশু আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মিছিলে পুলিশ আক্রমণ করেছে। আমাদের মিছিল-মিটিংয়ের অনুমতি দেয়া হয় না। রাজনীতি করি বলে আমরা তো কোন পাপ করিনি। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যেখানে ইলিয়াস আলীর মতো বরেণ্য রাজনীতিবিদ নিখোঁজ হচ্ছেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেইÑ সেখানে প্রধানমন্ত্রী জনগণের দৃষ্টি ফেরাতে স্টেডিয়ামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংবর্ধনার নামে নাচ-গানের অনুষ্ঠান করছে। তিনি আজকের হরতাল সর্বাত্মকভাবে পালনের জন্য সারাদেশের নেতাকর্মীদের প্রতি আহŸান জানিয়ে বলেন, শুধু মিছিল আর স্লোগান দিলে হবে না। আমাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের লোকেরাই বিডিআর বিদ্রোহ ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য তারা এটি করেছে। পরে ওই ঘটনায় নাসিরউদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুকে অভিযুক্ত করে মামলা দিয়েছে। পিন্টুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে হলে রাজপথ দখল করে আন্দোলন করতে হবে। রাজপথ যেন আমাদের দখলে থাকে সেভাবে আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট