Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মৃধা, এনামুল ও ফারুকের কাছে আজ যাচ্ছে সম্পদের হিসাব দাখিলের নোটিশ

সিরাজুল ইসলাম: পদত্যাগী রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের চাকরিচ্যুত এপিএস ওমর ফারুক, বরখাস্তকৃত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম ইউসুফ আলী মৃধা এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা শাখার কমান্ড্যান্ট এনামুল হককে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয়া হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর পক্ষ থেকে আজ এ নোটিশ দেয়া হবে। সম্পদের হিসাব জমা দিতে তারা আগামী ৭ কার্যদিবস সময় পাবেন। এ সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হলে তা কমিশনকে অবগত করতে হবে। এর মাধ্যমে আরও ৭ কার্যদিবস সময় পেতে পারেন। এ সময়ের মধ্যে কেউ সম্পদের হিসাব জমা দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে নন সাবমিশন মামলা করা হবে বলে দুদকের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র মানবজমিনকে জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন দুদক উপ-পরিচালক আবু সাঈদ এবং সহকারী পরিচালক রাশেদুর রেজা। দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন মহাপরিচালক খন্দকার আমিনুর রহমান এবং পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার তাহীদুল ইসলাম। খন্দকার আমিনুর রহমান জানান, নন-সাবমিশন মামলায় ৩ বছর সাজা ভোগের বিধান রয়েছে। নন-সাবমিশন মামলা হলেও পুনরায় তাদের সম্পদের হিসাব চাওয়া যেতে পারে। এদিকে শিগগিরই সুরঞ্জিত পুত্র সৌমেন সেনগুপ্তকে সম্পদের হিসাব জমা দেয়া হবে। এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন উপ-পরিচালক আখতার হামিদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন ২ সদস্যের একটি টিম। এ টিম সুরঞ্জিত পরিবারের অপর সদস্যদের অবৈধ সম্পদও খতিয়ে দেখবে বলে সূত্র জানায়। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান এবং মহাপরিচালক খন্দকার আমিনুর রহমান পৃথকভাবে জানান। উল্লেখ্য, গত ৯ই এপ্রিল রাতে ঘুষের ৭০ লাখ টাকাসহ বিজিবি সদস্যদের হাতে আটক হন ওমর ফারুক, ইউসুফ আলী মৃধা এবং এনামুল হক। মুচলেকা দিয়ে তারা ওই রাতেই ছাড়া পেয়ে যান। তবে ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে মন্ত্রীর পদত্যাগের। তদন্ত কমিটি গঠন করে রেল কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধানে নামে দুদক। ১৫৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর ১৬ই এপ্রিল মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এর আগে ওমর ফারুককে চাকরিচ্যুত এবং ইউসুফ আলী মৃধা ও এনামুল হককে বরখাস্ত করা হয়। দুদক এবং রেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এ ৩ কর্মকর্তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। দুদকের অনুসন্ধান ও রেলের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এসবের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য, বিজিবি সদস্যের হাতে গ্রেপ্তার, টাকার উৎস, গন্তব্য, নামে বেনামে থাকা সম্পদ প্রভৃতি বিষয় বের করার চেষ্টা চলছে। ওমর ফারুককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গাড়িচালক আজম খানকে খুঁজে বের করে দুদক কার্যালয়ে হাজির করার। সৌমেন সেনের ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গেটওয়ে কোম্পানির লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয় ছাড়াও নিজ এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ১৫০ বিঘা জমি দখলের বিষয়টিও অনুসন্ধানে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এপিএস ফারুকের মোহাম্মদপুরে কয়েক মাস আগে কেনা বিলাসবহুল বাড়ির উৎস বের করার চেষ্টা করা হবে। দুদক নথির একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, সমপ্রতি নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ইউসুফ আলী মৃধা ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আদায় করেন। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা নিজে রাখেন। ২০ লাখ টাকা এপিএস ফারুককে দেন। ১০ লাখ টাকা দেয়া হয় এনামুলকে। বাকি ৭০ লাখ টাকা গাড়িতে করে মন্ত্রীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অবৈধ টাকা বহনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করায় গাড়িচালক আজম খানকে হত্যার হুমকি দেয় এপিএস। এক পর্যায়ে আজম খান গাড়ি চালিয়ে ঢুকে পড়েন বিজিবি কার্যালয়ে। পরে বিজিবি সদস্যরা গাড়ি থেকে এ টাকা উদ্ধার করেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট