Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হরতালকে ঘিরে দেশজুড়ে টান টান উত্তেজনা

ঢাকা, ২১ এপ্রিল: বিএনপি আহূত আজ রোববারের হরতালকে ঘিরে দেশজুড়ে টান টান উত্তেজনা চলছে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো যে কোনো মূল্যে রোববারের হরতাল সফল করতে চাইছে। অন্যদিকে সরকার বেআইনি তৎপরতা অজুজাতে দমন-নিপীড়ন চালাতে ভ্রাম্যমান আদালত ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে মাঠ দখলে রাখতে চাইছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী ১৭ এপ্রিল রাতে নিখোঁজ হন। রাত দশটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। শনিবার পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিএনপি অভিযোগ করেছে ইলিয়াস আলীকে সরকারই তুলে নিয়ে গেছে। তাই তারা সরকারের কাছে দাবি করেছে অবিলম্বে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দিতে। আর এজন্যই রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি।

এটা আওয়ামী লীগ সরকারের গত তিন বছরে বিএনপির ডাকা দশম হরতাল। বিএনপির ডাকা এই হরতালে সমর্থন জানিয়েছে নব গঠিত ১৮ দলীয় জোটের শরীক দলগুলো। গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের বেঠকের পর এ সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানান এলডিপি’র চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহম্মেদ।

জানা গেছে, এবারের হরতালে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন। শনিবার বিকালে হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়িতে আগুন দেয়ার মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হতে পারে। এজন্য পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় থাকবে।

গত ১৭ এপ্রিল রাত দশটায় গাড়ি চালক আনসারকে নিয়ে বাসা থেকে বের হন ইলিয়াস আলী। রাত দেড়টার দিকে বনানীতে তার বাসার কাছেই সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে রাস্তায় তার গাড়িটি দরজা খোলা অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। গাড়ির মধ্যে চালক আনসারের মোবাইল ফোনটি পায় পুলিশ। ওই মোবাইল থেকেই ইলিয়াস আলীর বাসায় ফোন করে পুলিশ জানতে পারে এটি বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর গাড়ি। আর পরিবারের সদস্যরাও তখন থেকেই ইলিয়াস আলীর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও সেদিন থেকে বন্ধ রয়েছে।

পরদিন সকালে ইলিয়াস আলীর বাসায় সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, ইলিয়াস আলীকে সরকার তুলে নিয়ে গেছে। তিনি অবিলম্বে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

ওই দিন বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৮ দলীয় জোটের ঘোষণা দেয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোট নেত্রী খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের লোকেরা ইলিয়াস আলীকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি সরাসরি বলেন, ইলিয়াসকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় অনেকেই দেখেছে। তিনি বলেন, “অবিলম্বে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে না দিলে এক দফার আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে।”

ওই দিন রাতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটি ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। বৈঠক শেষে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই কর্মসূচির মধ্যে রোববার ২২ এপ্রিল সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল। বৃহস্পতিবার ও শনিবার বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে ইলিয়াস আলীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার ১৯ এপ্রিল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপি। একই দিন দলের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তারা অবিলম্বে ইলিয়াস আলীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেন।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ৯০’র ছাত্র নেতারা। তারা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে না দিলে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করবেন তারা। তারা অভিযোগ করেন সরকারের লোকেরাই ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে।

শুক্রবার বিকালে নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে মহানগর বিএনপি যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইলিয়াস আলীকে ফেরত না দিলে লাগাতার হরতাল দেয়া হবে। অবশ্য রোববারের পর হরতাল আরো বাড়ানো হবে কিনা সে ধরনের কোনো ইঙ্গিত দলের পক্ষ থেকে এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নিজ জেলা সিলেটে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে কয়েক বার। ইতিমধ্যে ১৮ এপ্রিল সিলেট বিভাগে হরতালও পালন করেছে ইলিয়াস সমর্থকরা। প্রতিদিনই সেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট