Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইলিয়াস নিখোঁজ জানতেন না বিশ্বনাথের ওসি

সিলেট অফিস: বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ সে খবর জানতেন না সিলেটের বিশ্বনাথ থানার ওসি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার ভেতরে গোটা দেশজুড়ে হৈচৈ চলেছে, নিজ এলাকা বিশ্বনাথে মানুষ বিক্ষোভ করেছে অথচ বিশ্বনাথ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ সে খবর জানতেন না। এ কারণে তিনি নিখোঁজ থাকা অবস্থায় ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছেন। গতকাল থানার নিজ কক্ষে বসে সাংবাদিকদের ওসি এ কথা জানান। বলেন, ‘ভাই সত্যি আমি এ খবর জানতাম না।’ আর ওদিকে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অস্ত্র বিস্ফোরক আইনে একটি ও চাঁদাবাজির ঘটনায় দায়ের করা আরও একটি ঘটনার মামলার বাদী লাপাত্তা। একাধিক স্থানে খোঁজ করে তাকে পাওয়া যায়। এ কারণে মামলা নিয়ে নানা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গতকাল দুপুরে দু’টি মামলা সম্পর্কে জানতে সাংবাদিকরা তার বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথের জানাইয়া গ্রামের যান। বাড়ি যাওয়ার আগে মামলার বাদী বাশার আলী বাচা মিয়ার বাড়িতে রয়েছেন বলে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে অবগত করেন। দুপুর ১২টায় বাচা মিয়া বাড়িতে গেলে তার মেয়ে নুরজাহান বেগম বলেন, আব্বা বাড়িতে নেই। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। ইলিয়াস আলী ড্রাইভার আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন মঙ্গলবার রাতে। বুধবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা ইলিয়াস আলী ছাড়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা সোহেল আহমদ চৌধুরীসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। ২০০১ সালে অক্টোবর মাসে ইলিয়াস আলী বিশ্বনাথের নতুনবাজারের সোনার বাংলা হোটেলের মালিক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাশার আলী বাচা মিয়ার কাছে ৫০ হাজার চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। প্রথমে সোহেল আহমদ চৌধুরী এ হুমকি দিলে ওই মাসেই ইলিয়াস আলীসহ আসামিরা তার হোটেলে হামলা চালান। এবং ককটেল বিস্ফোরণ করেন। গতকাল এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এখন আর সেখানে সোনার বাংলা হোটেল নেই। একটি খালের মধ্যখান ভরাট করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড। এলাকার লোকজন জানান, অনেক আগে সেখানে বাঁশ ও বেত দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বাচা মিয়া হোটেল খুলে বসেছিলেন। ওই হোটেলের নাম ছিল সোনার বাংলা হোটেল। ফুটপাতে হোটেল খুলে বসায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ২০০১ সালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তখন বিশ্বনাথ বাজারের বেশকিছু দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। দোকান উচ্ছেদের পর উপজেলার মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। এবং তারা ধীরে ধীরে ওই স্থানে মাটি ভরাট করে মাইক্রোস্ট্যান্ড গড়ে তোলেন। গতকাল বিশ্বনাথের কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক নেতা মানবজমিনের কাছে জানিয়েছেন, এখান থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা হয়নি। বরং, অবৈধদের দখল মুক্ত করেছে প্রশাসন। বিশ্বনাথের যানজট নিরসনে সেটি করা হয়েছে। জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির মিয়া জানান, ২০০১ সালে আমরা স্ট্যান্ডে প্রতিদিন থাকতাম। সেখানে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। আর এম ইলিয়াস আলী সেটি নিয়ে মাথাও ঘামাননি। ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে ১১ বছর পর মামলা দায়েরকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ওইজমি ভরাট করেছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। তারা চাঁদা তুলে মাটি ভরাট করেন। আর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকালেই বাচা মিয়া সেখান থেকে চলে যায়। আরও কয়েকজন শ্রমিক জানান, আমরা এখন ইলিয়াস আলীকে নিয়ে চিন্তিত। আর বিশ্বনাথের আওয়ামী লীগ ব্যস্ত জমি দখলে। স্থানীয় মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০১ সালে এ স্থানে কোন ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় শ্রমিক নেতা আবুল জানান, জমি আমরা ভরাট করেছি। খালি জায়গা পেয়েছি। পরে প্রশাসন থেকে আমাদের অনুমতি দেয়া হয়। এখানে এম ইলিয়াস আলীর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশ্বনাথ বিএনপির নেতারা। বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোনায়েম খান বলেন, বিশ্বনাথ থানায় বাচা মিয়ার মামলা প্রমাণ করে এম ইলিয়াস আলী এখনও জীবিত আছেন। তিনি নিখোঁজ থাকা অবস্থায় মামলা দায়ের এটাই বুঝায়- ইলিয়াস আলী সরকারের হাতে রয়েছেন। তারা মামলার মাধ্যমে ইলিয়াসকে আদালতে তুলে দিলে আমরা বাড়ি ফিরে যাবো। নতুবা সিলেটের বিশ্বনাথে আগুন জ্বলবে। থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক বশির আহমদ জানান, মামলা দায়েরের পর আমরা এখন বুঝেছি ইলিয়াস আলী সরকারের কাছে আছেন। নইলে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর কেন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম জানান, ইলিয়াস আলী জনগণের নেতা। তাকে গুম করে রাখার শক্তি নেই কারও। প্রয়োজনে বিশ্বনাথকে অচল করে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ সে বিষয়টি আমি জানতাম না। আমি শুনেছি অনেক পরে। তবে বাশার আলী বাচা মিয়া মামলা দায়ের করতে এজাহার দিলে আমরা এজাহার নিই। আর এখন দু’জন এসআইকে দিয়ে মামলার তদন্ত চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, দোকান ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, ককটেল বিস্ফোরণ করায় চাঁদাবাজি আইনে একটি ও অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিরা এখন কোথায়- প্রশ্ন করা হলেও ওসি বলেন, তারা পলাতক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আলোচিত এ মামলা দু’টির দুই নম্বর আসামি বিশ্বনাথ বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও লন্ডন প্রবাসী সোহেল আহমদ। তিনি দেশে এসেছেন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে। গতকাল সোহেল আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আমাকে মামলায় দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। অথচ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট