Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কেউ কিছুই জানেন না!

ঢাকা, ২০ এপ্রিল: জাতীয় ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর ইস্যুতে হাইকোর্ট চার সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর বিসিবি সভাপতি আর পরিচালকরা মুখে তালা মেরেছেন। কারো মুখে কোনো শব্দ নেই। ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজ’ ইস্যুতে স্থগিতাদেশ কেন বৈধ হবে না? কেন পাকিস্তান সফর বাতিল হবে না? হাইকোর্ট বিসিবির কাছে জানতে চেয়েছে। এই ইস্যুতে বিসিবি এখন তপ্ত আগুনের মতো জ্বলছে।

পাকিস্তান সফর এখন রাষ্ট্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। দুই দিন আগেও মিডিয়াতে প্রশ্ন উঠেছিল বিসিবি সভাপতি আহম মোস্তফা কামাল কি সরকারের অনুমতি নিয়ে পাকিস্তান সফরের ঘোষণা দিয়েছেন? বিসিবি থেকে এর কোনো জবাব মেলেনি। কিন্তু ১৯ এপ্রিল বেলা তিনটার পর জানা হয়ে যায় সরকারের অনুমতি ছাড়াই বিসিবি সভাপতি ঘোষণা করেছিলেন। যদি সরকারের অনুমতি থাকত তাহলে হাইকোর্টে রিট আবেদন হতো না। সরকারের অনুমতি থাকলে বিসিবি সভাপতি আর পরিচালকরা মুখে তালা মারতেন না। বিষয়টি এখন দিবালোকের মতোই পরিষ্কার।

‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজ’ ইস্যুতে পরশু সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে হাইকোর্টে বিসিবির কাউকে হাজির হয়ে জবাব দিতে হবে। হাইকোর্ট এমনই নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বিসিবি থেকে কে হাইকোর্টে উপস্থিত হবেন? আর হাইকোর্টে জবাবটাই বা কী হবে বিসিবির?

দিনভর অনুসন্ধান করেও এর কোনো সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি। অথচ একদিন আগেই বিসিবি ভারপ্রাপ্ত সিইও নিজামউদ্দিন সুজন বলেছিলেন, আজ বা কাল বিসিবিতে এই ইস্যুতে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সুর পাল্টিয়ে আজ নিজামউদ্দিন সুজন বলছেন, তিনি কিছুই জানেন না! বিসিবি ভারপ্রাপ্ত সিইও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে এই সিরিজ বর্তমান সিডিউলে আয়োজন করা সম্ভব নয় জানিয়েছেন।

নিয়ম অনুযায়ী বিসিবির সকল অফিসিয়াল কার্যক্রম ভারপ্রাপ্ত সিইও-র অধীনেই চলছে। বিসিবির আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মেহেদী চৌধুরী রোববার হাইকোর্টে উপস্থিত হবেন এমন তথ্য ভারপ্রাপ্ত সিইও দিয়েছেন। অথচ এখন বলছেন তিনি কিছুই জানেন না! তাহলে জানেটা কে? এর জবাবও পাওয়া যায়নি। কারণ বিসিবি সভাপতি বলেই দিয়েছেন হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর কথা বলা যায় না। তিনি কথা বলবেন না।

বিসিবি থেকে পরশু রোববার হাইকোর্টে জবাব নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। এই জবাবটা কি? অনেক চেষ্টা করেও তা জানা যায়নি। অথচ বিসিবি সভাপতির আশপাশে যে কজন পরিচালক আছেন তারা হাতেগোনা। দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, এনায়েত হোসেন সিরাজ, জালাল ইউনুস আর সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর। এরাই মূলত এখন বিসিবি চালাচ্ছেন। অন্যান্যরা বোর্ডে থেকেও নেই। অন্যরা নামেই আছেন কার্যক্ষেত্রে কাউকেই সামনে আসতে দিচ্ছে না বিসিবির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি।

যারা আছেন তাদের তো জবাব দিতে হবে। অথচ কেউ কিছু জানেন না! মিডিয়া কমিটির প্রধান ও পরিচালক জালাল ইউনুসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলে দিলেন, ‘আমি কিছু জানি না। আমি এ বিষয়ে নেই।’ তাহলে জানেটা কে? বলেন, ‘আমি জানি না।’

পরে টুটুল, এনায়েত, সিরাজ, লিপু সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কেউ মোবাইল রিসিভ করলেন না। এর অর্থ বিসিবিতে যখন বিশ্বকাপ-২০১১, বিপিএল আর এশিয়া কাপের মতো বড় বড় আসর হয়েছে তখন সবাই সব কিছু জানতেন। আর এখন যখন বিসিবির পরিচালকদের কার্যক্রম পুরো দেশ জুড়ে প্রশ্নবিদ্ধ, তখন কেউ কিছু জানেন না!

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট